০৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

পরিসংখ্যানে কিংবদন্তির বিদায়: আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির দুই দশক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬
পরিসংখ্যানে কিংবদন্তির বিদায়: আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির দুই দশক ছবিঃ সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির দুই দশকের গৌরবময় যাত্রার শেষ অধ্যায়ও লেখা হয়ে গেল। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি, দলকে উপহার দিয়েছেন বহু আকাঙ্ক্ষিত ট্রফি। ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর পরিসংখ্যান পৌঁছেছে অনন্য উচ্চতায়।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির অভিষেক ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ১২৬ গোল, আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৯টি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তাঁর হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ১১। এই সময়ে তিনি ৯টি হলুদ কার্ড ও দুটি লাল কার্ড দেখেছেন।

জাতীয় দলের হয়ে সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ২১০ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শিরোপা চারটি—২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং একই বছরের ফিনালিসিমা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় দলের শিরোপা-খরা ঘুচিয়ে মেসি পরিণত হয়েছেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়কে।

প্রতিপক্ষের দিক থেকেও মেসির রেকর্ডে রয়েছে বৈচিত্র্য। ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও চিলির বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৪টি করে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি ১১ গোল করেছেন বলিভিয়ার বিপক্ষে। ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে তাঁর গোল সাতটি করে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে এক ম্যাচে মেসির সর্বোচ্চ গোল পাঁচটি। ২০২২ সালে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে একাই পাঁচবার জাল কাঁপান তিনি। সেই বছরেই জাতীয় দলের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ১৮ গোলের কীর্তি গড়েন এই মহাতারকা। আর্জেন্টিনার হয়ে সব মিলিয়ে ৪৬টি দেশের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন মেসি।

কোন প্রতিযোগিতায় কত গোল

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গোলের সিংহভাগ এসেছে প্রীতি ম্যাচ ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে। ৬২টি প্রীতি ম্যাচে তাঁর গোল ৫৫টি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ৭২ ম্যাচে করেছেন ৩৬ গোল। বিশ্বকাপে ৩৪ ম্যাচে ২১ গোল আর কোপা আমেরিকায় ৩৯ ম্যাচে ১৪ গোল। ফিনালিসিমায় একটি ম্যাচ খেললেও গোল পাননি।

বিশ্বকাপে মেসির একের পর এক রেকর্ড

বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির রেকর্ডের তালিকা দীর্ঘ। দুটি বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জেতা একমাত্র ফুটবলার তিনিই। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ বার ম্যাচসেরার পুরস্কারও তাঁর ঝুলিতে।

মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—দুজনেই খেলেছেন ছয়টি করে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির। জয়ের দিক থেকেও তিনি শীর্ষে; বিশ্বকাপে ২৩টি ম্যাচ জিতেছেন লিওনেল মেসি।

তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে থাকা একমাত্র খেলোয়াড়ও মেসি। ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে নামার সময় তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ পর্বে যোগ হয়েছে আরও একটি অনন্য রেকর্ড—৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা খেলোয়াড়দের তালিকারও শীর্ষে উঠেছেন।

বিশ্বকাপ ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে মেসির গোলসংখ্যা ৩৫। বিশ্বকাপে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তাঁর অবস্থান দ্বিতীয়। তাঁর ওপরে আছেন ২২ গোলের মালিক ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সামগ্রিক হিসাবেও মেসি দ্বিতীয় স্থানে। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল নিয়ে তিনি রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ঠিক পেছনে। ২৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৪৬টি।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ক্যারিয়ার শুধু গোল, ম্যাচ কিংবা ট্রফির পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি যুগের কাহিনি। বিশ্বকাপ থেকে কোপা আমেরিকা, ব্যক্তিগত রেকর্ড থেকে দলীয় সাফল্য—জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দুই দশকের যাত্রায় আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম চিরস্থায়ী করে গেলেন লিওনেল মেসি।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ